Home / Featured / আদিবার মৃত্যু কি তাহলে শুধুই একটি রহস্য?

আদিবার মৃত্যু কি তাহলে শুধুই একটি রহস্য?

টাইমলাইন ২০১৬, বছরের সবচেয়ে আলোচিত এবং অমীমাংসিত আত্মহত্যার রহস্য “আদিবা”। যারা এখনো পরিচিত নন আদিবার সাথে, তাদেরকে পরিচয় করিয়ে দেই, ‘সুমাইয়া সুলতানা আদিবা’ রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের একজন ছাত্রী ছিলেন। ২৮ অক্টোবর ২০১৬ শুক্রবার সকালে তিনি আত্মহত্যা করেন।

আদিবা আত্মহত্যার রহস্য আজও উন্মোচিত হয়নি। আদিবার আত্মহত্যার সাথে যে সকল প্রশ্ন জড়িয়েছিল, তা এখনো অনুত্তর থেকে গেছে। এবং আদিবার পরিবারের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনোরূপ বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আদিবার মৃত্যুর পর তার প্রেমিক জারিফ নায়েলকে সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রতিশোধ পরায়ণ স্ট্যাটাস দিতে দেখা যায়, যেখানে তিনি উল্লেখ্য করেন যে – “আদিবাকে যারা মেরেছে তাদের তিনি ছাড়বেন না”। এরপরে অবশ্য এখন পর্যন্ত জারিফ নায়েল আদিবার মৃত্যু রহস্য নিয়ে কোনোপ্রকার স্ট্যাটাস দেননি। এবং বর্তমানে তাকে অত্যন্ত স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে দেখা গেছে। অন্যদিকে আদিবার মৃত্যুর পরের দিন জারিফ নায়েলের বন্ধু ‘আকাশ’ স্ট্যাটাস দেন যে আদিবার মৃত্যুর আগে তাকে তার পরিবারের লোকজন মারধর করেন এবং অসুস্থ অবস্থায় আদিবাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। পরবর্তীতে তিনিও আদিবার মৃত্যু নিয়ে আর কোন মন্তব্য করেননি। ফেসবুকে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ইনবক্সে কোনোরুপ উত্তর আসেনি তার পক্ষ থেকে !

আদিবার মৃত্যর পরে অনেক জনপ্রিয় ফেইসবুক এক্টিভিস্টরা আদিবার মৃত্যরহস্য নিয়ে কলাম লিখেন। সেখানে আদিবার মৃত্যুর কারণ হিসেবে অল্প বয়সের অসুস্থ প্রেমের পরিনতি, প্রেমিকের বহুগামীতা থেকে ডিপ্রেশন, পড়াশোনায় অমনোযোগী হওয়া এবং রেজাল্ট খারাপ হওয়া সহ আরো বেশ কয়েকটি বিষয় তুলে ধরা হয়। কিন্তু এইসব কারণকে কেন্দ্র করে আদিবার আত্মহত্যাকে চিহ্নিত করলেও আদিবার মৃত্যুরহস্য মূলত ধোঁয়াশা থেকেই গেছে।

আদিবার মৃতুর পরে যে প্রশ্নগুলো সবার সামনে এসেছে তারমধ্যে অন্যতম ছিল, ঠিক একই দিনে একবছর আগে আদিবার আরেকজন বান্ধবী প্রান্তিকা আত্মহত্যা করেন। একবছর পর আদিবা কেনো সেই একই দিনে আত্মহত্যা করলো?

এছাড়াও যতদুর জানা যায়, আত্মহত্যার করার পরে আইনানুগ যে সকল ব্যবস্থা পরিবার থেকে নিতে হয়, তা আদিবার পরিবার করেনি। এবং অতিদ্রুত নাকি তার লাশ দাফন করা হয়েছে। আদিবার মৃত্যুর সময় নিয়েও অনেক জটিলতা পাওয়া যায়। ভোর ৬টা পর্যন্ত আদিবাকে ফেসবুকে থাকতে দেখা যায় এবং এরপরেই সে আত্মহত্যা করে বলে অনেকে জানিয়েছে। অন্যদিকে তার প্রেমিকের বন্ধু দাবী করে, জুম্মার নামাজের সময় আদিবার সাথে জারিফের কথা হয় এবং এরপর আদিবা বাসা থেকে বের হতে চাইলে সিঁড়িতে তাকে তার পরিবার মারধর করে বাসায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে দুপুর ২টায় তাকে হাসপাতালে নিলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দীর্ঘচেষ্টার পরও আদিবার মৃত্যুর কোনো মেডিকেল রিপোর্ট এখন পর্যন্ত আমাদের হাতে আসেনি।

আদিবা হারিয়ে যাবার কিছুদিন পরই কে বা কারা আদিবার নামে নতুন একটি ফেসবুক একাউন্ট খুলে সেখানে আদিবাকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ছবি আপলোড করতে থাকে এবং সেইসাথে ওই আইডিটি থেকে বিভিন্ন জায়গায় আপত্তিকর কমেন্ট করতেও দেখা যায়। এছাড়াও বিভিন্ন গ্রুপে আদিবা এবং জারিফের ছবি ছড়ানো হয়। আদিবার পরিবার এবং প্রেমিক জারিফ এই ব্যাপারে কোনো অভিযোগ না করায় এবং তারা আইনের সহায়তা নিতে অস্বীকার করার জন্য এখন পর্যন্ত আদিবার ছবি এবং ভুয়া ফেইসবুক আইডিটি বিদ্যমান।

আদিবার রহস্যজনক মৃত্যু থেকেও বড় রহস্য থেকে যায় তার মৃত্যুর পরে পরিবার এবং প্রেমিকের আচরণ। এবং কেনো আদিবার মৃত্যুর পরও তার ছবি ব্যবহারকারীদের নিয়ে পরিবার থেকে অভিযোগ করা হচ্ছেনা, তার কোনো সঠিক কারণ এখনপর্যন্ত জানা যায়নি। অপরদিকে প্রেমিক জারিফের হঠাৎ করেই অত্যন্ত উচ্ছল জীবনে ফিরে আসাও আদিবার মৃত্যুকে আরও রহস্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তবে এখন আর বুঝতে বাকি নেই যে, প্রকৃতপক্ষে আত্মহত্যা করেননি সুমাইয়া সুলতানা আদিবা !

আদিবার মৃত্যু রহস্য হয়ত সব সময় অমীমাংসিত থেকেই যাবে। এরমাঝে আরো হাজারখানেক রিপোর্টও আমরা লিখে ফেলবো। কিন্তু এভাবে আর কোনো আদিবাকে নিয়ে আমরা লিখতে চাইনা। আদিবার মত আমাদের চারপাশে অনেক উচ্ছল প্রাণ রয়েছে, যারা অবহেলা আর ডিপ্রেশনে হারিয়ে যাচ্ছে। কতটা অসহায় হলে একজন মানুষ জীবনের হিসেবনিকেশ নিজহাতে বন্ধ করে দেয়, তার দৃষ্টান্ত আদিবা। বেঁচে থাকুক সকল আদিবা তাদের বাঁচার অধিকার নিয়ে। নিজ নিজ সম্পর্কে আপনার নিজের অবস্থান আগে বুঝে নিন ,ভালো থাকার চেষ্টা করুন। পরিবারের সদস্যদের সাথে দুরত্ব কমিয়ে বন্ধু্ত্ব স্থাপন করুন। আর নিজের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হন । সর্বাপরি নিজেকে ভালবাসুন…

[বিশেষ আপডেটঃ সুমাইয়া সুলতানা আদিবার মৃত্যুরহস্য নিয়ে সর্বশেষ পোস্টটি কিছুদিনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের কিছু বিষয় নিয়ে ‍উন্মুক্ত আলোচনায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় বিশেষ বাছবিচার ও প্রকিয়াকরণের পর প্রতিবেদনটি অনুমতিসাপেক্ষে প্রকাশ করা হবে।]