Home / Health / চিকনগুনিয়া ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশে !

চিকনগুনিয়া ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশে !

গত কয়েকদিন আগে বাংলাদেশে চিকনগুনিয়ার ভাইরাস পাওয়া গেছে। এডিস মশা এই রোগের ভাইরাসটি বহন করে থাকে।

চিকনগুনিয়াতে গা কাঁপিয়ে জ্বর আসবে। জ্বরে অচেতন হয়ে পড়ে থাকবেন। শরীর মারাত্মকরকম পানি শূন্যতায় ভুগবে। গলা শুকিয়ে আসবে। প্রতি ২/৩ মিনিট পর পর পিপাসা পাবে। মুখ শুকিয়ে যাবে। হাত পায়ে র‍‍্যাশ হবে, র‍‍্যাশের কারণে ভীষণ চুলকাবে। সবচেয়ে বড় সংকট যেটা হবে পা একদম ব্যথায় অচল হয়ে যাবে। পা ফেলা কঠিন হয়ে যাবে। ভুলেও এই জ্বরে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া যাবে না। এটি ক্ষতিকর। দয়া করে মশা থেকে নিজেকে রক্ষা করে চলুন। এবং এই ধরনের লক্ষন দেখা গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

চিকনগুনিয়া সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য

১৯৫৩ সালে তানজানিয়ায় চিকনগুনিয়া জ্বরের ভাইরাস প্রথম ধরা পড়ে। চিকনগুনিয়া জ্বরের ভাইরাস একটি আলফা ভাইরাস, গোত্র টোগা ভাইরাস। এটি মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। ডেঙ্গুর বাহক এডিস Adese Aegypti মশা চিকনগুনিয়া জ্বরের ভাইরাসেরও বাহক।

অন্যান্য মশার কামড়েও এ রোগের বিস্তার হতে পারে তবে তা সীমিত আকারে। এডিস মশা সাধারনত দিনের বেলা কামড়ায়। এ রোগের লক্ষন গুলো হচ্ছে জ্বর , মাথা ব্যাথা , দূর্বলতা , বমি বমি ভাব , মাংশপেশীতে ব্যাথা , হাড়ের জোড় গুলিতে ব্যাথা, শরীরে র্যাশ , হাড়ের জোড় গুলি ফুলে যাওয়া এবং বমি। হাড়ের জোড় গুলি ফুলে যাওয়া এই লক্ষন চিকনগুনিয়া ও ডেঙ্গুর মধ্যের প্রধান পার্থক্য । ডেঙ্গু জ্বরে হাড়ের জোড় গুলি ফুলে যাওয়া থাকে না। চিকনগুনিয়া জ্বরের বাহক এডিস Adese Aegypti মশা কামড়ানোর ৩ থেকে ৭ দিনের ভেতর চিকনগুনিয়া জ্বরের আক্রমন হয়। চিকনগুনিয়া জ্বর কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ ব্যাপি হতে পারে। অল্প কিছু ক্ষেত্রে হাড়ের জোড় গুলিতে ব্যাথা কয়েক মাস থাকতে পারে।

প্রাপ্তবয়স্ক একটি চিকনগুনিয়া মশা

একবার চিকনগুনিয়া জ্বর হয়ে গেলে সারা জীবনে আর চিকনগুনিয়া জ্বর হয় না। চিকনগুনিয়া জ্বরের চিকিৎসায় কোন এন্টিবায়টিক প্রয়োজন হয়না। চিকনগুনিয়া জ্বরের কোন টিকা নাই। জ্বরের চিকিৎসায় প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ এবং প্রচুর তরল খাবার খেতে হবে। এসপিরিন জাতীয় ওষুধ থেকে বিরত থাকতে হবে। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে চিকনগুনিয়া জ্বর নিশ্চত ভাবে সনাক্ত করা যায় তবে সাধারনত রক্ত পরীক্ষা ছাড়া রোগের লক্ষন দেখেই চিকনগুনিয়া সনাক্ত করা হয়।

চিকনগুনিয়া জ্বরের কারনে মৃত্যুর সম্ভাবনা বেশ কম। মেজাম্বিক এর ভাষায় চিকনগুনিয়া অর্থ “ বাঁকা হয়ে যাওয়া ” জ্বরে হাড়ের জোড় গুলি ফুলে যাওয়ার জন্য এই নামকরন।