গুলশান হামলাকারী তামিমের ডানহাত মুরাদ নিহত | রূপনগর অভিযান

রূপনগর অভিযান | গুলশান হামলাকারী তামিমের ডানহাত মুরাদ কিছুক্ষণ আগে পুলিশের অভিযানে নিহত হয়েছে। রুপনগরের একটি বাসায় পুলিশের অভিযানে নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতা তামিম চৌধুরীর এই সেকেন্ড ইন কমান্ড মুরাদের নিহত হবার ঘটনাটি ঘটেছে !

 

গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ছানোয়ার হোসেন এটিএন ২৪ নিউজ বলেন, “নিহতের নাম মুরাদ ওরফে মেজর মুরাদ। সে ওই বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছে জানতে পেরে সেখানে অভিযান চালানো হয়। গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার পর রূপনগর আবাসিক এলাকার ৩৩ নম্বর সড়কের ওই বাড়িতে তারা অভিযান চালান।

 

অভিযানে চলাকালে রূপনগর থানার ওসি সৈয়দ শহীদ আলম, পরিদর্শক (তদন্ত) শাহীন ফকির ও এসআই মোঃ মোমেনুর রহমান গুরুতর ভাবে আহত হন। মুরাদের পরিচয় জানতে চাইলে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, মুরাদ জেএমবির সামরিক প্রশিক্ষক।  সংগঠনের মধ্যে মেজর মুরাদ নামে পরিচিত ছিলো।

গুলশান হামলাকারী তামিমের ডানহাত মুরাদ নিহত ! রূপনগরে পুলিশের অভিযান

গুলশানের ক্যাফেতে হামলার ‘হোতা’ তামিম চৌধুরী গত ২৭ অগাস্ট নারায়ণগঞ্জে পুলিশি অভিযানে নিহত হওয়ার পর তদন্তে রূপনগরের এই বাসায় মুরাদের অবস্থানের বিষয়টি জানা যায় বলে জানান ছানোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, এর আগেও একদিন তারা ওই বাসায় অভিযানে যান। তবে সেদিন বাসাটি তালাবন্ধ থাকায় ফিরে আসেন। তবে তিনি বাড়িওয়ালাকে বলে আ‍সেন সেখানে ভাড়াটিয়া এলে পুলিশকে জানাতে। আজকে সে মালামাল আনতে বাসায় গেলে বাড়িওয়ালা বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে থানায় খবর দিলে পুলিশ যায়। তালা খুলে বাসায় ঢুকতে সে পুলিশকে স্ট্যাব করে। পরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে পালাতে গেলে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।আহত তিন পুলিশ সদস্যকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহীদ ও শাহীনকে সেখান থেকে স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।

 

ঢাকা মেডিকেলের আবাসিক চিকিৎসক জেসমিন নাহার জানান, শহীদের কোমরে এবং শাহীনের বাঁ কাধ ও মাথায় ধারাল অস্ত্রের জখম রয়েছে। শাহীনের ডান পায়েও জখম রয়েছে, যা গুলির ক্ষত বলে মনে হচ্ছে।

 

গত ১ জুলাই গুলশানে হামলায় ১৭ বিদেশিসহ ২২ জন নিহতের পর কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানে নয় জঙ্গি নিহতের পর কানাডা প্রবাসী তামিম চৌধুরীর নাম আসে। আইএসের বিভিন্ন প্রকাশনার উপর ভিত্তি করে তামিমকে সংগঠনটির বাংলাদেশ শাখার সমন্বয়ক বলা হয় আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের খবরে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, জেএমবিকে আবার সংগঠিত করেছেন তিনি। ‘নব্য জেএমবি’র নেতা তামিমই গুলশান হামলার মূল পরিকল্পনাকারী।

 

তকে ধরিয়ে দিতে ২ অগাস্ট ২০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক বলেন, “তদন্ত করতে গিয়ে আমরা যা পেয়েছি, এখানে মাস্টারমাইন্ড তামিম চৌধুরী। নব্য জেএমবির নেতৃত্ব সে দিচ্ছে। এই তামিম চৌধুরীর পর যারা দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রধান তাদেরকেও আমরা চিহ্নিত করেছি। এবং অতিসত্তরের মধ্যে তাদেরকে আমরা গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চালাচ্ছি।”

 

রূপনগর অভিযান আপডেট | সুত্রঃ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

share on: