অবশেষে বন্ধ হলো সিটিসেল !

সিটিসেল বন্ধ ঘোষণা ! প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বকেয়া পরিশোধ করতে না পারায় দেশের সবচেয়ে পুরোনো মোবাইল অপারেটর সিটিসেল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সিটিসেলের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যেম খবর দিচ্ছে।

 

বিটিআরসি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম বলছে, ‘বকেয়া পরিশোধে সিটিসেলকে বারবার সময় দেওয়ার পরও তা পরিশোধ না করায় সিটিসেলের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

অবশেষে বন্ধ হলো সিটিসেল !

সিটিসেলের কাছে বিটিআরসির বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৭৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এর মধ্যে টুজি লাইসেন্সের তরঙ্গ বরাদ্দ ও নবায়ন ফি বাবদ পাওনার পরিমাণ ২২৯ কোটি টাকা। এ ছাড়া রাজস্ব ভাগাভাগি বাবদ ২৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, বার্ষিক তরঙ্গ ফি বাবদ ২৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা, সামাজিক সুরক্ষা তহবিলের ৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা, বার্ষিক লাইসেন্স ফি বাবদ ১০ কোটি টাকা, মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বাবদ ৩৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা ও বিলম্ব ফি বাবদ ১৩৫ কোটি ৭ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে।

 

গ্রাহকসহ সিটিসেল–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্দেশে বিটিআরসির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অবশেষে বন্ধ হলো সিটিসেল ! আগামী ১৬ আগস্টের মধ্যে বিকল্প ব্যবস্থা বা সেবা নেওয়ার জন্য সময় দেওয়া হলো। সিটিসেলের টেলিযোগাযোগ সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে গ্রাহকদের অসুবিধার জন্য বিটিআরসির পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

 

১৯৮৯ সালে বাংলাদেশের প্রথম মুঠোফোন অপারেটর হিসেবে টেলিযোগাযোগ সেবার লাইসেন্স পায় সিটিসেল। তবে প্রতিষ্ঠানটি সেবা দিতে শুরু করে ১৯৯৩ সাল থেকে। যাত্রার সময় এটি ছিল দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম মুঠোফোন অপারেটর। প্রথম থেকেই সিটিসেল বাংলাদেশের একমাত্র সিডিএমএ (কোড ডিভিশন মাল্টিপল অ্যাকসেস) মোবাইল অপারেটর হিসেবে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

অবশেষে বন্ধ হলো সিটিসেল !

সিটিসেলে বর্তমানে ৫৫ ভাগ শেয়ারের মালিক দেশীয় শিল্পগোষ্ঠী প্যাসিফিক মোটরস ও ফার ইস্ট টেলিকম। এর মধ্যে প্যাসিফিক মোটরসের শেয়ারের পরিমাণ ৩৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ আর ফার ইস্ট টেলিকমের ১৭ দশমিক ৫১ শতাংশ। বাকি ৪৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ শেয়ারের মালিক সিঙ্গাপুরভিত্তিক টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সিংটেল। প্যাসিফিক মোটরস ও ফার ইস্ট টেলিকমের কর্ণধার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা মোর্শেদ খান। – Atn24online

share on: