ভূমিকম্প মেগাথ্রাস্ট | কি হবে ১৬ কোটি মানুষের?

ভূমিকম্প মেগাথ্রাস্ট ৯ মাত্রায় আসলে বাংলাদেশের অর্ধেকটা সমুদ্রের নিচে তলিয়ে যাবে ৪০ বছরের মধ্যে। এই অঞ্চলের প্রায় ১৬ কোটি মানুষ হবে উদ্বাস্তু। কি হবে এই ১৬ কোটি মানুষের?

 

বাংলাদেশে ভূমিকম্প হবে ৯ মাত্রার। রিখটার স্কেলে ৯ মাত্রা হলো ভূমিকম্পের সর্বোচ্চ পর্যায়। ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলেই বাংলাদেশের অধিকাংশ ভবন ভেঙে যাবে। ৮ মাত্রার হলে বাংলাদেশে কোনো ভবনের টিকে থাকার কোনো কারণ নেই। আর ৮-এর চেয়ে বেশি? যেখানে এই মাত্রার ভূমিকম্প হবে, সেখানে মহা প্রলয় ঘটে যাবে, রাস্তাঘাট পর্যন্ত ঠিক থাকবে না, রাজপথ হয়ে যাবে নদী, নদী হয়ে যেতে পারে পাহাড়। ভূমিকম্প মেগাথ্রাস্ট হবে এমনই এক প্রলয়ংকারী মহা ভূমিকম্প !

 

কোথাও কোনো আশা নেই। কি হবে এই ১৬ কোটি মানুষের? ভূমিকম্পে যদি দেশের অর্ধেক অংশ সাগরতলে হারিয়ে যায়, আমাদের সবই কি শেষ হয়ে যাবে? যেকোনো সময় হতে পারে এই ভূমিকম্প। হতে পারে ৫ মিনিট পর, হতে পারে ৫ মাস পর, কিংবা হতে পারে ৫ বছর পর। যখনই হোক না কেনো, কি হবে আমাদের? প্রশ্ন এখন এটাই। তবে এজন্য আশা হারানোর কোনো মানে হয়না। কারণ পৃথিবী চলে প্রাকৃতিক নিয়মে। সৃষ্টিকর্তা চাইলে দূর্যোগ আমাদের পথ না মাড়িয়ে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এটাই হোক আমাদের আশা।

 

সম্প্রতি আসন্ন এই ভূমিকম্প মেগাথ্রাস্ট (MegaThrust Earthquake) সম্পর্কে গবেষণা শেষে ড. আখতার একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ‘গত ৪০০ বছরে এখানে ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছে। ১৮৭৮ সালে ৮ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। এর আগে ১৭৮৭ সালে ব্রহ্মপুত্রের গতিপথের পরিবর্তন হয় ভূমিকম্পের ফলে। এর পর ১৭৬২ সালের ২ এপ্রিল বড় মাত্রার ভূমিকম্প হয়। বে-অব বেঙ্গলে সুনামির সৃষ্টি হয় ও টেকনাফসহ ছোটখাটো দ্বীপ এলাকা তলিয়ে যায় এবং সেখানে কাদার উদগিরণ হয়। সে সময় পর্তুগিজ জাহাজের এক ক্যাপ্টেন স্বচক্ষে ওই দৃশ্য দেখেন। ১৭৬২ সালের আগে সেন্ট মার্টিনের অস্তিত্ব ছিল না, ১৭৬২ সালের ভূমিকম্পের ফলে সেন্ট মার্টিনের উদ্ভব হয়।’

 

প্লেটের গতিপথ সম্পর্কে ড. আখতার বলেন, ‘ইন্ডিয়া আর বার্মা প্লেট আটকে আছে ৩০ কিলোমিটার গভীরে এবং গত এক হাজার বছরে এখানে কোনো বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়নি। তবে প্লেটের গতিপথ প্রতি ১০০ বছরে ১ দশমিক ৫ মিটার করে পরিবর্তন হয়েছে। তাহলে এক হাজার বছরে ১৫ মিটার চ্যুতি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশে ভূমিকম্প হলে ৮-এর ওপরে ৯-এ চলে যেতে পারে। আর সেটার আংশিক প্রতিফলন আজ ভোরে দেখা দিয়েছে, যার মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৮। আর এই ইন্ডিয়া-বার্মা প্লেটের আংশিক শক্তি আজ সামান্য রিলিজ করেছে। তবে এর বেশির ভাগ শক্তি রয়েছে ভেতরে, যা যেকোনো সময়ে উদগিরণ হতে পারে। আর এ কারণেই বাংলাদেশে আজ এই ভূমিকম্প দেখা দেয়। তবে বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। আর বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা সিলেট অঞ্চল। ভবিষ্যতে দেশে ৮ থেকে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প ( ভূমিকম্প মেগাথ্রাস্ট ) যেকোনো সময় হতে পারে।’

 

এ ধরনের বড় ভূমিকম্প মোকাবিলায় আগে থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার। – Atn24online

Mega Thrust Earthquake Bangladesh

share on: